Thursday, February 6, 2014

Dental Problem ! যদি দাঁত ঝকঝকে চান



সুন্দর দাঁত, সুন্দর হাসি আর এই দাঁতের কারণেই হাসতে অনেকেই বিব্রতবোধ করেন। বিশেষ করে যাদের দাঁত ঝকঝকে ও সুন্দর নয়।

দাঁতে হলদেটে ভাব কেন হয়?   

কারও কারও দাঁত জন্মগত কারণেই হলদেটে হয়। যেমন যাদের গায়ের রং ফর্সা তাদের দাঁত একটু হলদেটে। যারা শ্যামলা বা কালো তাদের দাঁত সাধারণত একটু বেশি সাদা হয়। এছাড়া টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় কিছু ওষুধ সেবনের কারণেও কারও কারও দাঁত হলদেটে হয়, এনামেলের কিছু অসুখেও হলদেটে হতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের দাঁত হলদেটে হওয়ার কারণ এগুলো নয়। তাহলে? যথাসময়ে যথাযথ পরিষ্কারের অভাব। পান, সিগারেট ইত্যাদি সেবন, দাঁত ক্যারিজ বা ক্ষয়রোগ হওয়া, সঠিক নিয়মে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা। কফি-চা সেবন করার পর পরিষ্কার না করা, আয়রণযুক্ত পানি (সাধারণত টিউবওয়েলের পানি) পান এগুলোই দাঁত হলদেটে দেখানোর বড় কারণ।

করণীয় কি?

যেসব অভ্যাসের কারণে দাঁতে দাগ পড়ে যাচ্ছে তা এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করতে হবে। কিন্তু আরও কিছু কাজ আছে যা নিয়মিত করলে দাগমুক্ত ঝকঝকে দাঁত হতে পারে।

ফ্লস করুন

শুধু ব্রাশ নয়, এখন ডেন্টিস্টরা খুব গুরুত্ব দেন ফ্লস করার ওপর। দেখা গেছে, ফ্লস করলে দাঁতে ক্যারিজ হয় খুব কম। ফ্লস হচ্ছে এক ধরনের সুতা, যা দিয়ে দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করা হয়। পেরিও ডন্টাইটিস হয়ে দাঁত নড়ে যাওয়ার ঘটনাও কম ঘটে। প্রতিবার খাবার পর ফ্লস করাটা খুব ভাল। তা যদি কোন কারণে সম্ভব না হয় অন্তত রাতের খাবারের পর ফ্লস করতে হবে। যাদের দাঁতের দাগ বেশি পড়ার প্রবণতা রয়েছে তাদের উচিত প্রতিবেলা খাবারের পর ব্রাশ করা। স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষের সকালের নাস্তার পর আর রাতের খাবারের পর ব্রাশ করা দরকার। এ সঙ্গে দুপুরের খাবারের পর ব্রাশ করতে পারলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে। একই কথা প্রযোজ্য ফ্লস করার ক্ষেত্রেও।

বেশি বেশি করে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি খান

সুস্থ দাঁত থাকলেই কেবল তা ঝকঝকে দেখানো সম্ভব। আর দাঁত সুস্থ ও সবল রাখতে নিয়মিত ব্যালেন্সড ডায়েট জরুরি। এই ব্যালেন্সড ডায়েটের মধ্যে থাকবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সিযুক্ত খাবার। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সিযুক্ত খাবার। ক্যালসিয়াম ছেলে-বুড়ো সবার দাঁতই মজবুত করতে কাজ করে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারের মধ্যে আছে দুধ, দুই, পনির, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, পাউরুটি ও সয়াসমৃদ্ধ খাবার। ভিটামিন সি দাঁত মজবুত করতে কাজ করে। এতে আছে এ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা টিসুর ক্ষতি কমায়। রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন সি নিয়মিত খেলে মাড়িতে ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করতে পারে না। সবুজ শাক-সবজি ও ফলমুলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। পাশাপাশি ফল খাওয়া দাঁতের জন্য অন্যদিক থেকেও উপকারী। যেমন আপেল ও গাজর এগুলো খেলে দাঁত পরিষ্কার থাকে। ক্যারিজ কম হয়। মুখে থুতুর প্রবাহ ঠিক থাকে।

যাদের মুখে থুতু কম হলে চুইংগাম খেতে পারেন। এতে মুখে থুতুর পরিমাণ বাড়ে তবে চুইংগামের চিনিও দাঁতের ক্ষতি করে, তাই সম্ভব হলে কম চিনিযুক্ত বা চিনিমুক্ত চুইংগাম খেতে পারলে ভাল।

চা, কফি, জুস ও কোল্ড ড্রিঙ্কস থেকে সাবধান

সব ঠিকঠাক আছে তবু কারও কারও দাঁত ঝকঝকে হয় না। কারণ এই ক্ষতি হয় চিনিযুক্ত যেকোন খাবার থেকেই। তা সেটা শক্ত হোক আঠাল বা চকোলেটের মতোই। আবার টক যেকোন খাবারে একটু হলেও এসিড থাকে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভাল হলেও এতে থাকা এসিড দাঁতের ওপর স্তর (যা এনামেল নামে পরিচিত) ক্ষয় করে। আর এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে ক্যারিজ খুব দ্রুত হ্রাস পায়। আর চা ও কফির নিজস্ব হলদেটে ভাব তো রয়েছেই। তাই চা-কফি যারা নিয়মিত পান করেন তাদের দাঁত এ কারণে হলদেটে হয়ে যায় সহজেই।

চিকিৎসার প্রয়োজন

বাড়িতে বসে দাঁত সাদা করার টুথপেস্ট দিয়ে সাধারণত এই ধরনের দাগ পরিষ্কার হয় না। আবার কিছু কিছু টুথপেস্টে এত বেশি পরিমাণে দানাদার পদার্থ বা এ্যাবরেসিভ থাকে এগুলো দিয়ে সব সময় দাঁত ব্রাশ করলে বরং এনামেল বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তাই যাদের দাঁতে এরই মধ্যে এ ধরনের হলদেটে ভাব তৈরি হয়ে গেছে তারা তা বাড়িতে নিজেরা পরিষ্কার করার চেয়ে ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে করানো ভাল। কারণ ডেন্টিস্টের কাছে টুথপলিশ করার পেস্ট ও বিশেষ ধরনের ব্রাশ থাকে। আর তিনি জানেন এগুলো কিভাবে ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষতি হবে না। তাছাড়া যদি তিনি মনে করেন শুধু পশিল করলে আপনার দাঁত ঝকঝকে হবে না। প্রয়োজন হবে টুথ ব্লিচিংয়ের সেটারও ব্যবস্থা করবেন। দাঁত ব্লিচ করলে সাধারণত আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝকঝকে হয়।

ম অধ্যাপক ডা : সৈয়দ তামিজুল আহসান রতন

No comments:

Post a Comment